• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

ঈদগাঁও জালালাবাদে

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামিদ নামের এক যুবককে হত্যা : অভিযুক্ত ৪ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২০১ ভিউ টাইম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের লরাবাগ এলাকায় মাত্র ১ হাজার টাকার পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে হামিদ (১৯) নামে এক মোবাইল মেকানিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত হামিদ জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে। তিনি ঈদগাঁও বাজারে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতেন। অপরদিকে অভিযুক্ত শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিক ও ফাতেমার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও ঈদগাঁও থানা সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল মেরামতের বাবদ শামীমের কাছে হামিদের ১ হাজার টাকা পাওনা ছিল। মঙ্গলবার সকালে লরাবাগ বাজারে যাওয়ার পথে দুজনের দেখা হলে হামিদ তার পাওনা টাকা দাবি করেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীমের মা ও বোন ঘটনাস্থলে এসে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় হামিদকে চেপে ধরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শামীম সঙ্গে থাকা একটি ধারালো ছুরি বের করে হামিদের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন। গুরুতর আহত হয়ে হামিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্ত শামীমকে নিরাপদে ঈদগাঁও থানায় পৌঁছে দিতে চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেন, “মাত্র ১ হাজার টাকার পাওনা নিয়ে একজন তরুণের প্রাণ চলে যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি আশা করি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঈদগাঁও থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শামীমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া শামীমের মা ও বোনকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলায় তাদের আসামি করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের ভূমিকা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর পুরো লরাবাগ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র ১ হাজার টাকার পাওনা নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেউ কল্পনাও করেনি। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

বর্তমানে এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঈদগাঁও থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ