• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন

দাফনের প্রস্তুতি চলছে; চিকিৎসাধীন মা জানেন না ছেলের মৃত্যুর খবর

ডেস্ক নিউজ / ১৯০ ভিউ টাইম
আপডেট : রবিবার, ২৯ মে, ২০২২

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আঁখি বেগম (২৫) ও তাঁর তিন বছরের শিশুকন্য মরিয়ামকে শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় সার্জারি (মহিলা) ওয়ার্ডে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে দুপুর ২টার দিকে আঁখি বেগমের আট বছরের ছেলে আরাফাত আবদুল্লাহর মৃতদেহ উজিরপুর মডেল থানা থেকে গ্রহণ করেছে স্বজনরা। অথচ সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলে নিহতের খবর জানেন না মা আঁখি বেগম।

চিকিৎসারত মা বারবার ছেলেকে খুঁজলেও স্বজনরা বলছে ‘আরাফত ভালো আছে, বাড়িতে সুস্থ আছে’।
কিন্তু মায়ের মন সেই কথায় শান্ত হচ্ছে না। তাই স্বজনদের কাছে ক্ষণে ক্ষণে ছেলের কথা জানতে চাচ্ছেন আঁখি। এ সময়ে তাঁর কাছে থাকা আরাফতের নানি মাহিনুর বেগম এবং মামা মেহেদি হাসান কান্না চেপে এ কথা শুনিয়ে যাচ্ছেন।
মাহিনুর বেগম কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কিভাবে ওকে (আঁখি) জানাই আরাফাতা মারা গেছে। তার মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিনুর বেগম।

আঁখি বেগমের বাড়ি ঝালকাঠী সদর উপজেলার মানপাশা গ্রামের হাওলাদার বাড়ি। তিনি ওই বাড়ির ওমানপ্রবাসী মনির হাওলাদের স্ত্রী। আঁখি-মনির দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। রবিবার ভোর ৫টায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুরে সানুহা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আঁখি বেগমের মেজো ছেলে আরাফাত আবদুল্লাহ্ নিহত হন। আহত হন আঁখি বেগম ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে মরিয়াম।

আঁখির ভাই মেহেদি হাসান বলেন, ‘মেজো ছেলে এবং মেয়ে নিয়ে গত সপ্তাহে আঁখি তাঁর মামাশ্বশুরের (মনির হাওলাদারের মামা) ঢাকার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ সেখানে থাকার পরে শনিবার রাতে বাড়ির উদ্দেশে ছেলে-মেয়ে নিয়ে গাড়িতে ওঠেন আঁখি। আজ সকালে উজিরপুর থানা এবং শেবাচিম হাসপাতাল থেকে নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাই। আঁখির শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুপুর দেড়টার দিকে আরাফাতের লাশ উজিরপুর থানা থেকে গ্রহণ করেছে। আমরা আছি হাসপাতালে। ‘

তিনি আরো জানান, ‘আজ মাগরিব নামাজের পারে জানাজা শেষে আরাফাতের দাদাবাড়ির পরিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হবে। ‘


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ