বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চাঁন মিয়া নামে এক জনের বিরুদ্ধে ১১ বেকার যুবকের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভালো বেতনে পদ্মা সেতুতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এসব যুবকের টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় বেকার যুবকদের পক্ষে গোলজার রহমান বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আজ সোমবার দুপুরের দিকে ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমিত বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মিলেছে।
চাঁন মিয়া চাকরি প্রত্যাশীদের টাকা ফেরত দিতে চেয়েছেন। তবে টাকা ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়া (৬০) পদ্ম সেতুতে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৬ মাস আগে ১১ যুবকের কাছ থেকে ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা নেন চাঁন মিয়া। এর মধ্যে উপজেলার জোড়খালী গ্রামের গোলজার রহমান, শামীম হোসেন, রুস্তম আলী, তারেক, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক ও শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে এবং রিয়াজুল ইসলাম সবুজ, সোহেল তালুকদার, ইব্রাহীম হোসেন ও মিলন রহমানের কাছ থেকে ৮ হাজার করে টাকা নিয়েছে।
কিন্ত এসব বেকার যুবকদের কাঙ্ক্ষিত চাকরি দিতে পারেননি চাঁন মিয়া। ফলে প্রতারণার শিকার এসব যুবকেরা চরম হতাশায় পড়েন। চান মিয়ার কাছে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখান। বাধ্য হয়ে জোড়খালী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে গোলজার রহমান বাদী হয়ে ২০ মে চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।
গোলজার রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর উন্নয়ন কাজের সুপারভাইজার পদে মাসে ২৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্ত আমাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে শ্রমিকের কাজ দিয়েছিল। সেখানে কয়েক দিন কাজ করে বাড়ি ফিরে এসেছি।
একই এলাকার রিয়াজুল ইসলাম সবুজ বলেন, পদ্মা সেতুর উন্নয়ন কাজে ব্যবস্থাপক পদে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্ত আজও আমাকে চাকরি দিতে পারেনি।
চাঁন মিয়া বলেন, পদ্ম সেতুতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ দেওয়ার কথা বলে ১১ যুবকের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের কাজ দিয়েছিলাম। সেখানে তারা কয়েক দিন কাজ করে বাড়ি ফিরে এসে টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। আমি কম্পানির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছি।