• সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন

প্রচণ্ড গরমে ভালো নেই খাঁচার প্রাণীরাও

ডেস্ক নিউজ / ৪৩ ভিউ টাইম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

গরমে স্বস্তি পেতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পানিতে আশ্রয় নিয়েছে বাঘ। এমন অবস্থা অন্য প্রাণীদেরও -মো. রাশেদ

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এ পরিস্থিতিতে হাঁসফাঁস করছে সবাই। টানা তাপদাহের এই সময়ে ভালো নেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার খাঁচার পশু-প্রাণী। তীব্র গরমে কষ্টে সময় পার করতে হচ্ছে চিড়িয়াখানার শতাধিক প্রজাতির সাড়ে ছয় শতাধিক পশু-প্রাণীকে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে এখন পানিতেই সময় কাটছে বাঘ, সিংহ, ভালুকসহ বেশিরভাগ প্রাণীর। তীব্র খরতাপে পাখিদের মধ্যেও বেড়েছে চরম অস্বস্তি। টানা তাপদাহের কারণে অনেক প্রাণীরই দেখা দিচ্ছে পানিশূন্যতা। এতে স্বাভাবিক আচরণগত পরিবর্তনও দেখা দিচ্ছে। খাবার
গ্রহণে দেখা দিচ্ছে অনীহাও। অনেক প্রাণী গরমে শুধু হাঁপাচ্ছে।
কয়েক দিন ধরেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তাপমাত্রা থাকছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। সোমবার দুপুরে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। তীব্র গরম থেকে মুক্তি মেলার ব্যাপারে আশার কথা শোনাতে পারছেন না আবহাওয়াবিদরা।
উল্টো গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

টানা সময় ধরে ভয়াবহ গরমের কারণে এসব প্রাণী নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ভ্যাপসা গরমে প্রাণিকুলে স্বস্তি দিতে প্রতিদিন প্রয়োজন হচ্ছে বাড়তি পানি সরবরাহের। প্রতিদিনের খাবার তালিকায়ও আনতে হচ্ছে ভিন্নতা। গরমে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি স্যালাইন ও ভিটামিন সি। অনেক প্রাণীকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে দেওয়া হচ্ছে তরল খাবারও। কোনো প্রাণী আবার গরম সহ্য করতে না পেরে শারীরিকভাবে দুর্বল বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে কিনা সেটি তদারক করতে বাড়ানো হয়েছে মনিটরিং ব্যবস্থা।
চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র গরমের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বেশিরভাগ প্রাণীর মধ্যে। স্বাভাবিক সময়ে চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখের একটু সামনে থাকা সিংহ জোড়ার হুঙ্কার শুনতে পেতেন দর্শনার্থীরা। তা ছাড়া খাঁচার চারপাশে ‘রাজার’ মতোই ঘুরে ঘুরে গর্জন দিত বাঘ। গরমের কারণে বাঘ ও সিংহের এমন দৃশ্য নেই। খাঁচাবন্দি অন্যান্য প্রাণীরও নেই স্বাভাবিক সময়ের মতো একে অপরের সঙ্গে খুনসুটি, চিৎকার-চেঁচামেচি। গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে খাঁচার ভেতরের চৌবাচ্চায় বেশিরভাগ সময় মাথাসহ পুরো শরীর পানির মধ্যে ভিজিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় বাঘ করোনা, জয়া ও জো বাইডেনকে। পানিতেই বেশিরভাগ সময় কাটছে বিরল সাদা বাঘ ‘শুভ্রা’ ও তার সন্তানগুলোর। কখনও একে অন্যের পিঠে উঠে, খুনসুটি করে বা হুট করে পানি দিয়ে পুরো গা ভিজিয়ে সময় কাটছে শাবকদের। অন্য প্রাণীরা দৌড়াদৌড়ি ও ছোটাছুটি করে বেশিরভাগ সময় পার করলেও গরমের কারণে ভিন্নতা দেখা গেছে। বন্দি পশু-প্রাণীদের কেউ খাঁচার এক কোণে বসে, কেউ বা আবার গাছের ছায়ায় বসে পার করছে বেশিরভাগ সময়।
দুই সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসা চাকরিজীবী দিশা আক্তার বলেন, কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরম অনুভব হচ্ছে। এতে বাসায়ও থাকা যাচ্ছে না। ভ্যাপসা গরমে বড়দের মতো হাঁসফাঁস অবস্থা ছোটদেরও। তাই তাদের স্বস্তি দিতে এখানে এসেছি। গরমে মানুষের মতো খারাপ অবস্থা খাঁচায় বন্দি পশু-প্রাণীরও। অন্যান্য সময় এখানে এলে সিংহ, বাঘসহ প্রায় সব প্রাণীর যেভাবে সর্বত্র বিচরণ দেখতাম, সেটি এবার দেখছি না।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ সমকালকে বলেন, তীব্র গরমে মানুষের মতো এদের অবস্থাও কাহিল। খাঁচাবন্দি প্রাণিকুলকে গরম থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে তাই বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্তমানে প্রতিদিন বাড়তি পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পানিতেই বেশিরভাগ সময় পার করে গরম থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে পশু-প্রাণীরা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক ড. মো. ছাদেকুল আলম বলেন, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও বাড়বে। চট্টগ্রামে বৃষ্টি না হওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি। তাই প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাপমাত্রাও। এ কারণে গরম অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি অনুভূত হচ্ছে। গরমের চলমান তীব্রতা আরও কিছুদিন থাকবে।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ