• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

ঈদগড়ের তরুণ ব্যবসায়ী তারেকের উপর সন্ত্রাসীর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ইব্রাহিম খলিল / ১৮৯ ভিউ টাইম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩

ঈদগড়ের তরুণ ব্যবসায়ী জামান মোহাম্মদ তারেক হোসাইন (৩১) কে ডাকাত কর্তৃক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আঘাত করে টাকা লুটের ঘটনায় ঈদগড় বাজার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১০ই আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর আড়াইটার দিকে ঈদগড় বাজারে উক্ত মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক কামাল শিশির বলেন, ব্যবসায়ী জামান মোহাম্মদ তারেক হোসাইন কে যারা এই ধরনের হামলা করেছে তাদের দ্রুত সনাক্ত পূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় এলাকায় অপরাধীরা আরো বেশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। প্রতিনিয়ত ঘটে যাবে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

তিনি, ঈদগড়ের চিহ্নিত ডাকাতি, অপহরণ স্থান গুলোতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান করেন।

অপরদিকে ব্যবাসায়ী জামান মোহাম্মদ তারেক হোসাইনের পিতা ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, আজ আমার ছেলে ডাকাতির পাশাপাশি মারাত্মকভাবে হামলার শিকার হয়েছে। কাল বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরাও যেকোন সময় ডাকাতির শিকার হতে পারে। তাই এখনই সময় বুকে সাহস নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

ঈদগড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, আজকে শুধু তারেক নয়, অতীতে আরও অনেকে অপহরণ, ডাকাতি সহ নানা ঘটনার শিকার হয়েছে। ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে শিল্পী জনি দে রাজ ডাকাতদের উপুর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরণ করেছে। সেখানে হত্যার প্রতিবাদ করাতে ঐ স্থানে বয়োজ্যেষ্ঠ মোহাম্মদ কালু নামের একজন ব্যক্তিও ডাকাতদের গুলিতে মৃত্যু বরণ করেন। কিন্তু আজ-ও তার বিচার হয়নি। এই ব্যবসায়ী নেতা দ্রুত ঈদগড় কে অপরাধী মুক্ত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ঈদগড় স্বপ্নতরী যুব সংগঠনের সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, আজ বাইরে কোথাও আমরা ঈদগড় বাসি নিজ এলাকার পরিচয় দিতে পারিনা। আর দিতে গেলেও অপমানিত, লজ্জায় মাথা ছোট করতে হয়। ভালো কোন লোক ঈদগড় কে ভালো চোখে দেখেনা। আমরা শুধু একটি মাত্র কারণে তথা সড়কে ডাকাতি, অপহরণ, খুনখারাবির জন্য। এই সামাজিক সংগঠনের নেতা আরও জানান, ঈদগড়ের কোন শিক্ষিত ছেলের জন্য বাইরে থেকে একটা ভালো মেয়ে আনতে গেলেও পড়তে হয় বিপাকে। একইসঙ্গে মেয়ে বিবাহ দিতেও একই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। যা সত্যিকার অর্থে খুবই লজ্জা জনক। যে বিষয়টা আমাদের সকলকে আজ খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ সম্মিলিত ভাবে এলাকার চিহ্নিত ডাকাত বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। যা এখনই সময় এসেছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ডাকাতি, অপহরণ, খুনখারাবি বন্ধে এলাকার সবাইকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি জমা দেওয়া বিষয়টিও তুলে ধরেন।

এদিকে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী প্রতিবাদ সমাবেশে ঈদগড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, ঈদগড় স্বপতরী যুব সংগঠন, ঈদগড় এ এম বি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সংসদ, জীবনের আলো ছাত্র সংগঠন, সিএনজি সমিতি, টমটম সমিতি, মিনি টমটম সমিতি সহ আরও একাধিক সামাজিক সংগঠন এতে অংশগ্রহণ করে।

ঈদগড় রূপসী বাংলা সংগঠনের সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ কাউসার জানান, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেখানে যা যা করার দরকার-জনকল্যাণে সব কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সড়কে ডাকাতি কালীন যাত্রীদের বাঁচাতে ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের পানেরছড়া ঢালায় ডাকাতের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন তৎকালীন ঈদগড় আর আর এফ পুলিশ ক্যাম্পের নায়েক সুষময় চাকমা। তিনি, মৃত্যু পরবর্তী বীরত্বের কারণে বাংলাদেশ পুলিশের স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। যা তার মাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে সে সম্মাননা গ্রহণ করে।

কতো অপহরণ, ডাকাতি, খুনের পরে-ও যদি ঈদগড়ের ইতিহাস থেকে এই ডাকাতদের দুর্নামের কালেমা মুছে না যায় তাহলে ধরে নিতে হবে আজীবন ডাকাতদের কালো অধ্যায় নিমজ্জিত ঈদগড় বাসী। আর এমনই মনে করেন এলাকার সর্বসাধারণ।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ