• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

ঈদগড় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন

ইব্রাহিম খলিল / ২২৩ ভিউ টাইম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৩

ঈদগড় ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস ১৫ ই আগস্ট পালন করা হয়েছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল দশটায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন পাশাপাশি অর্ধনমিত করা হয়। সেই সাথে দলীয় পতাকা ও উত্তোলন করা হয়।

১৫ ই আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনায় খতমে কুরআন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন ঈদগড় বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুর রহিম।

এদিকে বিকাল চারটায় ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস সম্পর্কে এক বিশদ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগড় ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সাংবাদিক কামাল শিশিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন এর সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি লক্ষ্য পূরণে খুব ধীর-স্থির ও চৌকস ছিলেন। এই মানুষটির দৃঢ় মনোভাবের কারণে পা কি স্তা নি শাসকরা পর্যন্ত তাকে মারাত্মক সমীহ করত। ২৪ ঘণ্টা গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে থেকেও তিনি ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ ৬ দফা বাস্তবায়নে সারাদেশে জনমত সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতেও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলা করেছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় – সেদিনও বীরদর্পে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন – “স্টপ শ্যুটিং”! পাকিস্তানিরা ভড়কে গিয়েছিল সেই মহান নেতার ব্যক্তিত্বের কাছে।

৭১-এর ডিসেম্বরে বিজয় অর্জনের পর, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশকে আবারো গড়ে তুলেছিলেন। একদিকে প্রায় শূন্য ব্যাংক রিজার্ভ, অন্যদিকে ভাঙাচোরা রাস্তা – ব্রিজ -কালভার্ট-বাড়িঘর। সেই পরিস্থিতিতে তরুণদের, মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু সবকিছু পুনর্গঠিত করেছিলেন। চালু করে ফেলেছিলেন কলকারখানাগুলো। আন্তর্জাতিক মহলের প্রায় সব বড় ফোরামে নতুন রাষ্ট্রকে যুক্ত করেছিলেন তিনি – জাতিসংঘ, ওআইসি, কমনওয়েলথ সবাই বাংলাদেশকে সাদরে গ্রহণ করেছিল এই মহান নেতার ক্যারিশমায়। তিনি যখনই সব প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, দেশের প্রবৃদ্ধির হার তখন ১১% এর ওপরে, ঠিক তখনই পুরনো শত্রুরা এক হলো, প্রতিশোধ নিতে চাইলো ১৯৭১-এর পরাজয়ের। ৭১-এর পরাজিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি ঘাতকদের সাহস দিলো, পালানোর পথ করে দিলো, বাংলাদেশ স্বৈরাচারের কবলে পতিত হলো।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, জাতির পিতার মৃত্যুর পর ধ্বংস হয়ে গেলো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন। শুধু জনরোষের ভয়েই দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কট্টর ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে পারল না উগ্রবাদীরা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, সেই ৩২ নম্বরের বাড়িতে ভোরের আজানের কিছু আগেই হামলা করেছিল বর্বর ঘাতকরা। বাংলার স্বাধীনতার অন্যতম প্রতীক ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর ভেসে গেলো রক্তে। বাংলার মানুষকে ভালোবাসার নির্মম প্রতিদান দিলো বেঈমান মোশতাক-জিয়া এবং দলছুট মেজরদের খুনি চক্র।

আলোচনা সভায় ঈদগড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি সাঈদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা বেদারুল ইসলাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি-সেক্রেটারি গণ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির, ঈদগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ কাউসার, ওলামা লীগ সভাপতি মাওলানা জাফর আলম প্রমূখ।


আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ