সেই চিক্ক্যুইন্যার ইয়াবা সাম্রাজ্য কুতুবদিয়ার পেয়ার মোহাম্মদ এর হাতে | ChannelCox.com

Najim UddinNajim Uddin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:১৭ PM, ১৭ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বহুল আলোচিত ইয়াবা কারবারি রোহিঙ্গা সিরাজুল ইসলাম ওরফে চিক্ক্যুইন্যাকে বলা হয় মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের ইয়াবা নিয়ন্ত্রক ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এজেন্ট।

বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে মিয়ানমারের ২০টি ইয়াবার কারখানার প্রধান সমন্বয়ক হলেন রোহিঙ্গা চিক্ক্যুইন্যা। চিক্ক্যুইন্যা ইয়াবা রাজত্বের খবরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

এর পর চিক্ক্যুইন্যা নিজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে কৌশলে মালয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সেখানে বসে চিক্ক্যুইন্যা তার ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পেয়ার মোহাম্মদ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের মৃত আলম কুদ্দুসের ছেলে।

সূত্রে জানা গেছে, চিক্ক্যুইন্যার ঘনিষ্ট সহযোগী পেয়ার মোহাম্মদকে ইয়াবা সাম্রাজ্য দেখা শোনার দায়িত্ব দিয়েছেন চিক্ক্যুইন্যা। তাকে সহযোগীতা করছে চিক্ক্যুইন্যার ভাই রোহিঙ্গা ইসমাইল। দুই জনেরই বাংলাদেশী এনআইডি ও পাসপোর্ট আছে, যাহা পেয়ার মোহাম্মদ এর সহযোগিতায় পেয়েছে।

পিয়ার মোহাম্মদ চিক্ক্যুইন্যার ইয়াবার ডিলারের দায়িত্ব নেয়ার কথা অস্বীকার করলেও চিক্ক্যুইন্যার ভাই রোহিঙ্গা ইসমাইলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের কথা ফাঁস হবার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তবে সাম্প্রতিক সময় ইয়াবার টাকায় গড়া পিয়ার মোহাম্মদ এর কুতুবদিয়ার চিংড়ি প্রজেক্টে ইসমালকে দেখা গেছে, প্রজেক্টে জাল ফেলে মাছ ধরতে। এর পর থেকে কুতুবদিয়ার জুড়ে হৈচৈ পড়েগেছে।

সূত্রে মতে, পিয়ার মোহাম্মদ কক্সবাজার ও চট্রগ্রামে আত্মগোপনে থেকে কক্সবাজার ও চট্রগামে বিশাল একটি ইয়াবার সিন্ডিকেটে নিয়ন্ত্র করছেন। করোনাকালীন সময় পিয়ার সিন্ডিকেট লক্ষ লক্ষ ইয়াবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আনিয়েছে।

অল্প সময়ের মধ্যে ইয়াবার জাদুতে বদলে গেছে একসময় দিনে এনে দিনে খাওয়া ব্যক্তি পেয়ার মোহাম্মদের জীবন। তিনি এখন চড়েন ব্যক্তিগত গাড়িতে। কক্সবাজার শহরে একটি বাড়ি ও একাধিক জায়গা কিনেছেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, প্রথম দিকে পিয়ার মাহাম্মুদ তার নিজ সমন্ধী জনৈক জসিমের ইয়াবা পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল এই পেয়ার মোহাম্মদ, খুব তাড়াতাড়ি ইয়াবা চালানের সব পথ রপ্ত করে নেয় ধূর্ত এই ইয়াবা বাজ, সে সুবাদে ইয়াবা ডন চিক্ক্যুইন্যার সুনজরে আসতে সক্ষম হয় কম সময়েই৷ তারপর আর পেছনে থাকানোর প্রয়োজন পড়েনি তার৷

সরাসরি জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায় রাতারাতি কক্সবাজারের গন্ডি পেরিয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা সহ চতুর্মুখী ইয়াবা পাচারের সম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে পেয়ার মোহাম্মদের৷

নিজেকে আড়াল করে রাখার জন্য পেয়ার মোহাম্মদ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের সাথে চলাফেরা করেন। বন্ধু বান্ধব হিসেবে নিজ এলাকা ও বিভিন্ন এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলেদের কেই বেশী রাখার চেষ্টা করত, তাঁদের কাছে নিজেকে একেক সময় একেক নামে উপস্থাপন এবং ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসার কথা বলে পরিচয় দিত সে৷ তবে তার কিছু ভিডিও ও ডকুমেন্টস প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।

খুব টেকনিক্যাল চলাফেরার কারণেই এখনো প্রশাসনের নজর এড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছে পেয়ার মোহাম্মদ। বেশীরভাগ সময় ফেরদৌস নামে পরিচয়টা ব্যবহার করে থাকে সে৷

কুতুবদিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, পিয়ার মোহাম্মাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তার অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, ইয়াবা কারবারি যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Channel Cox News.

আপনার মতামত লিখুন :