হুন্ডি ব্যবসায়ী আবছারের কাণ্ড:সম্পদের লোভে নিজ পিতাকে ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২১ PM, ০২ জুলাই ২০১৯

মহেশখালী সংবাদদাতা:

সম্পদের লোভে অসুস্থ পিতাকে ব্যবহার করে আনছারুল করিম নামে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আদালতে হয়রানি মূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তিনি নন তার স্ত্রী ও সহোদর ৩ভাইসহ মোট ৫জনের বিরুদ্ধে এ মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানাগেছে।

ভুক্তভোগী আনছারুল করিম মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের বান্ডি সিকদার পাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওই এলাকার মোঃ হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, ভুক্তভোগী আনছারুল করিম সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে প্রবাসি দুই ভাই কায়সার ও আবছার মিলে অসুস্থ পিতাকে ব্যবহার করে নিজেরাই সব লুঠ করতে চাইছে।

তাদের অসৎ উদ্দ্যেশ্যে হাসিল করতে গত ২৪ এপ্রিল ২০১৯ ইং পিতা মোঃ হোছাইনকে কৌশলে মানুষিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করে কক্সবাজার জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আদালতে ডাকাতির অভিযোগে নালিশী মামলা দায়ের করা হয়।

সাবেক এমইউপি সদস্য আনছারসহ উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে এ নালিশী মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে মহেশখালী থানাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দায়েরকৃত লিখিত এজাহারে বাদী দাবি করেন, গত ৭ মার্চ ১৮ ইং বিকাল ৫ ঘটিকার সময় বিবাদী দল বল নিয়ে আমারবাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ীর আসবাব পত্র ভাংচুর করে আমার ৩য় সন্তান আবছার উদ্দিন বাঁধা প্রদান করার চেষ্টা করে। তখন আসামীগণ তাঁদেরকে মারধর করে মৃত্যুর ভয় দেখাইয়া মাটিতে বসাইয়া রাখে। এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণলংকার লুট করে।

তবে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। স্থানীয় গ্রামবাসী উল্টো আনছারুল করিমকে হয়রানির অভিযোগ এনে দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে আনছারের ছোট ভাই আবছার পিতার সম্পদ বেশি ভাগ ভোগ করার জন্য তার কারসাজিতে নিজ পিতাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ এনে এ মামলাটি দায়ের করেছেন। তাকে যদি মিথ্যে মামলায় জেলে পাঠানো যায়, তবে আবছার নিজের মত করে সম্পদ ভোগ করতে পারবেন ভেবে এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি গ্রামবাসীর।

বাদীর আপন ভাইপো আবুল কাছিমের ছেলে জসিম উদ্দিন বলেন নিজেদের কুকর্ম আড়াল করতে আনছারের বিরুদ্ধে এসব করছে তারা। তিনি আরও বলেন বাড়ীর মালামাল লুটপাট তো দুরের কথা এখানে কোন কথা কাটাকাটি হয়নি। তবে আনছারের সাথে পিতার মনিমালিন্য থাকতে পারে এটা স্বাভাবিক বিষয়। এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আবছার দাবার খেলাতে পঠু,বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বরং আবছারের বিরুদ্ধে রাস্তা দখল ও বিদ্যুৎতের খুঁটিতে এঙ্গেল দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ তু্লেছে স্থানীয়রা। এ ছাড়াও আবছারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের ধারনা তার কুকর্ম আড়াল করার জন্য পিতার মাধ্যমে নিরহ ভাইকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার সত্যতা জানতে উপজেলার মাতারবাড়ীর ২ নং ওয়ার্ড বান্ডি সিকদার পাড়া গত ২ জুন (বুধবার) তদন্ত করেছেন মহেশখালী থানার পুলিশের একটি টিম। তবে তদন্তকালে পুলিশ টিমটি ঘটনার ব্যাপারে তেমন ইতিবাচক সত্যতা পায়নি বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় মসজিদের ইমাম, সচেতন লোকজন জানিয়েছেন, অত্র এলাকায় এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় এম.ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় ডাকাতি ও মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। এজহারে ডাকাতির বিষয়ে স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ ও মেম্বারকে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন এটি অহেতুক বাড়াবাড়ি।

ভুক্তভোগী আনছারুল করিমের অভিযোগ অসুস্থ পিতাকে সম্পদ লোভী ভাইয়েরা জোর করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন। তিনি জোর দাবি করে বলেন, এলাকার একজন নিরহ মানুষ, সচেতন মহল ও জনপ্রনিধি যদি আমার বিপক্ষে বলেন তবে আমি নিজে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবো। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মহেশখালী থানার ওসি তদন্ত সফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :