চকরিয়ার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ৩০ মামলার আসামী মঞ্জুর আলম তার সদস্যসহ সেফহোমে! ChannelCox.com

Najim UddinNajim Uddin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২৬ PM, ১৫ অক্টোবর ২০২০

এ.এম হোবাইব সজীব:

প্রাণ ভয় আর ক্ষমা এই দুই তাগিদে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া ও চকরিয়ায় দলে দলে ছাড়ছেন সন্ত্রাসী ও জলদস্যুরা। অপরদিকে ইলেকট্রনিক মিড়িয়া বেসরকারী টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক আকরাম হোসাইনের মধ্যস্থতায় দস্যুরা আত্মসমর্পণ করতে সম্মতি হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

তাছাড়া নিজের ভূল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করায় চকরিয়া উপজেলার সওদাগর ঘোনা এলাকার মঞ্জুর আলম
সহ তার সদস্যদের সেভহোমে নেয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময় চিরিংগা সওদার ঘোনা এলাকা থেকে তাঁদেরকে সেফহোমে নেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, দেশের আলোচিত সাংবাদিক আকরাম হোসাইনের মধ্যস্থতায় আত্মসমর্পণের জন্য মঞ্জুর আলম সহ ও তার কয়েকজন সদস্যকে সেফহোমে নেয়া হয়। উপকূলের আলোচিত ৩০ মামলার আসামী শীর্ষ সস্ত্রাসী মঞ্জুর আলমকে সেফহোমে নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আস্তানা গেড়ে সাগরে স্থলে দস্যুতার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল মঞ্জুর আলম। সে হয়তো নিজের ভূল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাচ্ছে।

তিনি সহ তার বাহিনীর সদস্যদের সেফহোমে যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনমনে স্বস্থি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাওয়ায় চকরিয়া উপকূলে শান্তি ফিরতে শুরু করেছে এমনটা মনে করেছেন সচেতন মহল।

জানা গেছে, চিরিংগা ও তার পাশ্ববর্তী এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার তাগিদেই আলোচিত সন্ত্রাসী মঞ্জুর আলম ও তার অনুসারিরা আত্মসমর্পণ করতে সম্মত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দফায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে দক্ষিন চট্টগ্রামের উপকূলের বাঘা-বাঘা জলদস্যুরা। এমনটাই জানিয়েছেন প্রশাসনের একাধিক সূত্র। বর্তমানে এসব জলদস্যুরা সেফহোমে চলে গেছে।

মহেশখালীর পর এবার চলতি মাসের যে কোন দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়ায় এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও প্রায় শতাধিক জলদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে আত্মসমর্পন করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে অবশেষে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও চকরিয়া সন্ত্রাসী, অস্ত্রের কারিগর দস্যুদের বিশাল একটি অংশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করতে যাচ্ছে একাধিক সূত্রে জানাগেছে। অবশেষে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে এমন কথারও উদয় হচ্ছে!

তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের যে সেক্টরে আত্মসমর্পন করে অপরাধীরা অস্ত্র জমা দেওয়া হোক না কেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুগ যুগ ধরে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও চকরিয়া সন্ত্রাসী দস্যুদের দমন করতে গিয়ে জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজন হিমছিম খেয়ে আসছিল। তবে জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আশস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন একজন সাংবাদিক। দস্যুদের মন দুলছে অজানা শংকা আর নামহীন সন্দেহ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের শান্ত করলেন সাংবাদিক আকরাম হোসাইন। তিনি জীবনের ঝূঁকি নিয়ে প্রথম শুরু থেকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রচার করে সন্ত্রাসী ও জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পথ সুগম করে দিলেন।

বাংলাদেশের দক্ষিণ চট্টগ্রামের জলদস্যুদের অভয়ারণ্য বাঁশখালীসহ উল্লেখিত ভিত্তিক তয় দফায় দস্যূ দলের কয়েকটি গ্রুফ বিনা রক্তপাতে স্বেচ্ছায় নিজেরা সেফহোমে সাংবাদিক আকরাম হোসেনের এর মধ্যস্থতায় চলে গেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে।

উল্লেখ্য,গত ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রথম আলোচিত সাংবাদিক আকরাম হোসেনের মধ্যস্ততায় র‍্যাব-৭ এর সহায়তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র‌্যাবের ডিজির উপস্থিতিতে মহেশখালীর আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ৫ টি বাহিনীর ৩৭ জনসহ ৪৩ জলদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল।

এর ধারাবাহিকতায় ২য় দফায় ২০১৯ সালে ২২ নভেম্বর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় একযোগে মহেশখালীর কালারমারছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেন ১২টি সন্ত্রাসী বাহিনীর ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর। এ সময় তাঁরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৮৪ রাউন্ড গুলি, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন যন্ত্র জমা দেন। তাঁরা সবাই জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়ার জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর।

সাংবাদিক আকরাম হোসেন এক প্রতিক্রিয়া বলেন, সন্ত্রাসী ও দস্যুতায় লিপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি জলদস্যু বাহিনী খুব শিঘ্রই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি আরোও বলেছেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ২য় দফা জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের পর বাঁশখালী উপকূলের জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। আর এজন্যই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী অঞ্চলের দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করছি।

Channel Cox News.

আপনার মতামত লিখুন :