আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমি জুর-জবর দখল ও ধর্ষণের চেষ্টা, আহত-৬..

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫২ PM, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিউজ ডেস্ক,কক্সবাজার:
গত মঙ্গলবার, ২৪-এ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকার সময়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলাধীন হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ড এর জনাব আলী পাড়ায় ঘঠে এই নির্মম অমানবিক ঘঠনাটি। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয় মহিলা শিশু সহ মোট ৬ জন। আহতদেরকে উখিয়া উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতরভাবে আহত হওয়া জান্নাত (৩০) এর প্রায় দ্বিখন্ডিত হওয়া হাতের অবস্থা গুরুতর হলে উখিয়া সদর হাসপাতাল আহত জান্নাতকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে এবং অন্য ৫ জন উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহত জান্নাত (৩০) এর নিকট হতে সরাসরি ঘটনার বিষয়ে জানতে জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত এর টিম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যায়। হাসাপাতালে যাওয়ার পর দেখা যায়, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ( অর্থো সার্জারী বিভাগ ) জান্নাতের অবস্থা খারাপ হওয়ায় কতৃপক্ষ চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম রেফার করে ।

ভিকটিমের নিকট হতে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন: আমি শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ী বেড়াতে আসছি দু-একদিন হয়। বাবার বাড়ি আসার পর থেকেই শুনতেছিলাম যে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার প্রতিবেশী আব্দু ছফুর (৩০), পিতা- মৃত ছৈয়দ আলম, হাসেম, পিতা- ফখির আহমদ গং- আমার পরিবারের লোকদের যেখানে পাবে সেখানে খুন করে ফেলবে এই ধরনে হুমখি ধমকি দিচ্ছে। যার দরুন আমার ভাই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র মুসলিম উদ্দিন প্রায় মাস খানেক ধরে প্রাণ রক্ষার্থে সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িতে কম অবস্থান করে। এমনকি খুনিদের ভয়ে তার মাদ্রাসায় চলমান পরিক্ষাতেও উপস্থিত হতে পারছেনা।

মঙ্গলবার, ২৪-এ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ ঘটিকার সময় আকস্মিকভাবে আব্দু ছফুর ও হাসেম সহ প্রায় ২০-২৫ জন রোহীঙ্গা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাস বাহীনি নিয়ে আমার বাবার বসতবাড়ীর উঠানে এসে বাড়ির আঙ্গীনায় রূপণকৃত বনজ-ফলজ বিভিন্ন গাছপালা গুলো কর্তন করতে থাকে। আমি গাছ কাটার শব্দ শুনে বের হলেই আব্দু ছফুর আমার পরনের শাড়ী খুলে শ্লীলতা হানীর চেষ্টা করে। আমি আমার ইজ্জত বাছানোর জন্য তাকে প্রতিহত করতে চেষ্টা করলে আমার পরনের শাড়ীটি খুলে শাড়ীটি দিয়ে আমাকে সুপারিগাছের সাথে বেধেঁ ফেলে। আমার শোর চিৎকার শুনে আমার বাবার বাড়ি হতে পরিবারের অন্য সদস্যরা বের হলে তাদের উপরও সন্ত্রাস বাহীনিরা কিল-ঘুষি লাতি সহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করতে থাকে।
আক্রমণকারী আব্দু ছফুর আমাকে পুনঃ ধর্ষনের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য আমি শাড়ীর বাঁধ হতে হাত খুলার চেষ্টা করি। ঠিক তখনই আব্দু ছফুর আমাকে ধারালো একটি দা দিয়ে আমার হাত কেটে নেবে বলে জুরে কুপ মারে। এতে আমার বাম হাতে কুপ লাগার পর প্রচুর রক্তখরণ হয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে আমি হুস হয়ে দেখি হাসপাতালের বেডে।

আক্রমণ হওয়া দ্বিতীয় মহিলা ছেনুয়ারা (২৩), স্বামী: আব্দুল আলীম, এর নিকট থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান: আক্রমণরীদের মধ্যে রোহিঙ্গারা ব্যতীত অন্নান্যরা আমাদের প্রতিবেশী হয়। তারা আমাদের পরিবারের উপর আগেও অনেকবার জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আক্রমণ করে। আমার দেবর মুসলিম উদ্দিনকে পেলে সরাসরি খুন করে ফেলবে মর্মে এলাকায় বলে বেড়ায় এবং আমাদেরকেও মারবে বলে হুমকি ধমকি দেয়।
এদিকে বাড়িতে কোন পুরুষ না থাকায় আক্রণকারীরা আমাদেরকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে আসে এবং লুটপাট করে।

ঘটনার সময় আমরা জান্নাত এর চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হলে আক্রমণকারী সন্ত্রাসীরা অতর্কীতভাবে আমাদের উপর হামলা করে। জান্নাতকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ী কুপাকুপি করতে শুরু করে। এতে জান্নাত এর হাতটি প্রায় দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। আমাদের উপরও অমানবিক অত্যাচার করার পর সন্ত্রাস বাহীনিরা বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়িতে থাকা আমার দেবরের ভিসা বাবদ সংরক্ষিত প্রায় ২,৩০,০০০/- দু-লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, বাড়ীর ব্যবহৃত আসবাব পত্র সহ, দুটি গৃহপালীত গরু, ও দুটি ব্যবহারের মোবাইল ফোন এবং মুসলিম এর ব্যবহারের লেপটপ লুট করে নিয়ে যায়।

আমাদের শুর চিৎকার শুনে এলাকাবাসীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালায়। ঘটনার পর উখিয়া থানার এস.আই আব্দুল খালেককে প্রতিবেশীরা ফোনে ঘটনার বিষয়ে জানালে তিনি সরজমিনে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিষয়টি পরিদর্শন করেন। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছি।

উল্লেখ্য যে, পূর্বেও আমরা একাধিকবার এই সন্ত্রাস বাহীনির হাতে আক্রমন হয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগনের মাধ্যমে সামাজিকভাবে সামাধান করার চেষ্ট করি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আইনের প্রতি মোটেও শ্রদ্ধাশীল না। স্থানীয় চেয়ারম্যান এর সালিশী কোন সমাধান তারা মানেনা। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে একটি জিআর মামলা- ৩৮৯ দায়ের করি। আজকের দিনে আক্রমণকারীদের উক্ত মামলার হাজিরার তারিখ ছিলো। উক্ত মামলাটি তুলে না নিলে আজকে আমাদের বাড়িতে যাকে পাবে তাকে খুন করে ফেলবে মর্মে তারা হত্যা এবং ধর্ষণ ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে আমাদের উপর আক্রমণ করে।
আমরা এই সন্ত্রাশবাহীনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

এই বিষয়ে আহত জান্নাত আরার ভাই যিনি প্রাণ রাক্ষা করার জন্য বাড়ির বাইরে জিবন-জাপন করতেছে তাকে হাসাপাতালে দেখে মাতৃজগত টিম ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে, ছেলেটি কান্না করে হৃদয়বিধারক এই ঘটনাটি একইভাবে আমাদের কে উপস্থাপন করেন। মাদ্রাসা পড়োয়া এই ছাত্রটি তার পরিবারের সকল সদস্য এবং তার প্রাণ রক্ষার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী

আপনার মতামত লিখুন :