কক্সবাজার শহরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে উঠছে ভবন, নেই তদারকি

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২১ PM, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯

শাহীন মাহমুদ রাসেল

কক্সবাজার শহরের পৌর এলাকায় যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। অধিকাংশ ভবন নির্মাণে সঠিক কোনো প্ল্যান মানা হচ্ছে না। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হলেও এ ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা হচ্ছে এসব ভবন— এমনটাই অভিযোগ সচেতন মহলের। অপরিকল্পিত নগরায়ণে কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের এলাকায় ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়ে বা আগুন লেগে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। শুধু পৌরসভা এলাকাই নয়, পুরো উপজেলাই একটি অব্যবস্থাপনার উপজেলায় পরিণত হয়েছে।

শুধু আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন নয়, শিল্প ও কলকারখানা নির্মাণের ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কারখানাগুলোতে নামমাত্র অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও আবাসিক বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার লেশমাত্র নেই। ইতোমধ্যেই কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি ভবনকে চিহ্নিত করে জরিমানাও করেছে।

কক্সবাজার সদর ও শহরে বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না ইমারত নির্মাণ আইন। আবাসিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে চারপাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণের নিয়ম থাকলেও শহর ও পুরো উপজেলায় তা অনেকটাই উপেক্ষিত। একটি ভবন থেকে অপর ভবনের দূরত্ব এতটাই কম যে, এক ভবনের বাসিন্দারা অপর ভবনের বাসিন্দাদের ছুঁতে পারে। আর এসব অব্যবস্থাপনা তদারকির দায়িত্বে যারা আছেন তারাও তেমন সক্রিয় নন। ফলে কখনো কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আবাসিক এলাকায় আইন অনুযায়ী মিল-কারখানা স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও একের পর এক কারখানা গড়ে উঠছে। এমনকি সদরের বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ির পাশে ইটভাটা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে কারখানাও গড়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় রাস্তার জায়গা না রেখেই ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে অধিকাংশ এলাকার রাস্তাগুলো সরুভাবে তৈরি করা হচ্ছে। ফলে কোনো কোনো মহল্লায় গাড়ি নিয়ে ঢোকা তো দূরের কথা, রিকশা নিয়েও যাতায়াত করা যায় না। এসব এলাকার অসুস্থ রোগীকে হাসাপাতালে নিতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়।

কক্সবাজার সদরের পৌরসভাধীন এলাকায় নতুন কোনো ঘর বা ইমারত নির্মাণ করতে গেলে উন্নয়ন কতৃপক্ষের অনুমতি ও অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নকশা অনুমোদন করলে তবেই ভবন নির্মাণ করা যাবে; কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উন্নয়ন কতৃপক্ষ থেকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে না। কাগজে কলমে যে অনুমোদন নেওয়া হয়, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। আবার অনেকে (কউক) এর অনুমোদন না নিয়েই রাস্তার জন্য জায়গা বা চতুর্দিকে জায়গা না রেখেই বহুতল ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি কিংবা মার্কেট নির্মাণ করছেন। ফলে সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

কউক সূত্রে জানা যায়, ভবন নির্মাণের ব্যাপারে কউক থেকে নকশা করে নেয়া হলেও ভবনের মালিকরা তা অমান্য করে থাকেন। দু’টি ভবন নির্মাণের সময় উভয় পাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট স্থান ছাড়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ছাড়া হয়না। গাড়ি পার্কিং’এর জায়গা না ছেড়ে সানশেড বা ব্যালকুনি রাস্তার ওপর নির্মাণ করা হয়ে থাকে। বিল্ডিং নির্মাণের আগেই ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমোদন নেয়ার নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না।

কক্সবাজার পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদরা বলেন, কউকের কোনো মাস্টারপ্ল্যান নেই। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্ণেল অবঃ ফুরকান আহমদ জানান, যারা আগে পৌরসভা ও ডিসি অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছে তারা এধরনের স্থাপনা নির্মাণ করেছে। বর্তমানে এধরনের কোন স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাছাড়া নিয়ম না মানার প্রবনতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এ ক্ষেত্রে স্বল্প জনবল নিয়ে কউক একেবারেই অসহায়। পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে এইসব স্থাপনার বিরুদ্ধে অতি শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :