রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার কার্যকর সমাধানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন দরকার

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৫৪ PM, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯

ইমাম খাইরঃ
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবসন কমিশনার মো. মাহবৃুব আলম তালুকদার বলেছেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার কার্যকর সমাধান হতে পারে।
একটা সময়ে স্থানীয়রা বলবে, রোহিঙ্গাদের আগমনের কারণেই অবকাঠামোগত প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। কক্সবাজারের বেকার লোকজন চাকুরি পেয়েছে।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের প্রকল্প পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে এক বিরল নজির স্থাপন করেছে। আমাদের এই সংকট মোকাবেলায় আরও সহনশীল হতে হবে। উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনগণই সর্ব প্রথম এই সংকট মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, প্রত্যেক সংকট একটি সুযোগ তৈরি করে যেটির মাধ্যমে কোন অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এই সংকটের পর, এখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টি দেয়ার সময় এসেছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের পাসাপাশি এই সংকট থেকে কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করতে হবে। তিনি কোস্ট ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানান এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন ।
দাতা সংস্থা, এনজিওগুলোর উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেছেন, স্থানীয়দের বঞ্চিত করে যাতে কোন কাজ না হয়। ক্যাম্পে কাজের বেলায় শতভাগ সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও নয়ছয় করে পার পাওয়া যাবে না।
রোহিঙ্গাদের স্থান দিয়ে প্রথম দিকে একটু খারাপ লাগলেও সময়ে লাভের বিষয়টি সবাই বুঝতে পারবে মন্তব্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণায় আমরা নিজেদের ঘরবাড়ি উজাড় করে রোহিঙ্গাদের থাকার জায়গা দিয়েছি। নিজেরা না খেয়ে তাদের খাইয়েছি। যে কারণে আমরা গরীব দেশের নাগরিক হলেও বিশ্ব দরবারে মর্যাদাবান। বাংলাদেশ অনেক ‘বড় হৃদয়ের দেশ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
একই সঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আমরা যে আশ্রয় দিতে পেরেছি, সেটি বড় ক্রেডিট। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি মানবিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা পৃথিবীর অনেক বড় দেশও পারেনি।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহাবুব আলম তালুকদার বলেছেন, প্রত্যাবাসন একটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া। আমরা চাইলেই হঠাৎ হবে না।
তবে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে ‘ফেক আচরণ’ করছে মিয়ানমার। মিটিংয়ের পর মিটিং হলেও আপাততঃ আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। এ জন্য জাতিসংঘের সহায়তা নিতে হবে। প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টায় আছে বলেও মন্তব্য আরআরআরসির।
সভায় বক্তব্য রাখেন – কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল মালেক, দাতা সংস্থা মাল্টিযার ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা হাবিবা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, উখিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাব উদ্দিন।
কোস্ট ট্রাস্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী তাহরিমা আফরোজ টু¤পার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তৃতা রাখেন আঞ্চলিক টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলম, সমাপনী বক্তৃতা করেন সহকারী পরিচালক মো. মজিবুল হক মনির।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহসশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তাহরিমা আফরোজ টুম্পা। তিনি জানান, এই প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে টেকনাফের হ্নীলা ও উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১০০০ পরিবারের টেকসই আয় বৃদ্ধি, নিজস্ব পারিবারিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি, ৬৫টি আত্ননির্ভরশীল সংগঠন তৈরি এবং দুর্যোগ মোকাবেলা প্রস্তুতির সক্ষমতা বৃদ্ধি।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন -হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সরওয়ার আলম শাহিন, ভয়েস অব উখিয়ার সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার, পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমদ, বালুখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুজ সেন, কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন) এর বার্তা সম্পাদক ইমাম খাইর, নয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মাদ মুজিবুল হক।

আপনার মতামত লিখুন :