কুতুবদিয়ায় প্রশাসনের তৎপরতা স্বত্বেও আক্রান্ত এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত ঢুকতেছে লোকজন

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:১১ PM, ১৭ এপ্রিল ২০২০

কাইছার সিকদার,কুতুবদিয়া থেকে:

নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জন জীবনকে রক্ষার সংগ্রামে যেন দিন রাত এক করে কাজ করছে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী৷ সব কিছুকে ফাঁকি দিয়ে, সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে এক প্রকার লুকিয়ে কুতুবদিয়ায় ঢুকছে দেশের বিভিন্ন আক্রান্ত এলাকা থেকে বহু লোকজন৷

কুতুবদিয়া মূলত দ্বীপ এলাকা হওয়ায় চারদিকে সাগর পথে অনুপ্রবেশের সুযোগটা সব চাইতে বেশী৷ সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে ব্যস্ত কিছু অসচেতন মানুষ৷ হয়ত তারা নিজেই জানে না নিজ এলাকা ও নিজ পরিবারকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন মনের অজান্তে৷ প্রশাসন ইতি মধ্যেই নির্দিষ্ট সব ঘাটেই নজরদারি বাড়িয়েছেন, ঘাটের ইজারাদার, সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি, বোট মালিক সবাইকে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন যাতে কোন রকমে ঘাট দিয়ে কুতুবদিয়ার বাইরে থেকে কোন লোক জন প্রবেশ করতে না পারে৷ প্রশাসনের কড়াকড়ি দেখে অনেকে লুকিয়ে ঘাট ব্যাতী রেখে অন্য জায়গা দিয়ে কাঁদা, পানি মাড়িয়ে প্রবেশ করতেছে দ্বীপে৷ কিন্তু এবার যেন লুকোচুরি করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন ই মনে করেন নি কিছু ব্যক্তি, দিনে দুপুরে সরাসরি ঘাট দিয়েই দেশের বিভিন্ন আক্রান্ত এলাকা থেকে প্রবেশ করছেন কুতুবদিয়ায়৷

নির্ভরযোগ্য সুত্রে খবর পাওয়া যায় গত ১৫ই এপ্রিল বুধবার গভীর রাতে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কুমিরা ছড়ার জেলে পাড়ায় বাঁশখালী থেকে এসেছেন অন্তত ৮(আট) জন- (১)মন রাম জলদাশ, পিঃ মৃত বাসি মোহন জলদাশ (২)ফেঁজা রাম জলদাশ,পিতা দিন বন্ধু জলদাশ (৩)বিশ্ব জলদাশ, পিতা অজ্ঞাত (৪)ননাই জলদাশ, পিতা অজ্ঞাত ব্যক্তি গন দীর্ঘদিন যাবত বাঁশখালী অবস্থান করে ওই দিন সবার অগোচরে গভীর রাতে জেলে পাড়ার নিজ গৃহে ফিরে আসেন৷ এছাড়া আরো ৪জন তাদের সঙ্গে ছিলেন যাদের নাম জানা সম্ভব হয়নি৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাট সংশ্লিষ্ট একজন জানান, গত ১৬ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ১ ঘটিকা হইতে ২ ঘটিকার মধ্যে ৩(তিন) জন ব্যক্তি সরাসরি ঘাট দিয়ে উপরে উঠে আসেন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা স্থানীয় পূর্ব আলী আকবর ডেইল চৌধুরী পাড়াস্ত জনৈক জাফর-পিতা আলী আহমদ এর জামাতা বলে জানান৷ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় সাতকানিয়া থেকে আসছিলেন ওই ৩ ব্যক্তি, ঘাটের সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিগন তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ অনুপ্রবেশে আপত্তি জানালে জাফরের ছেলে আলী জিন্নাত ও আকিব এসে ওরা তাদের মেহমান এবং তাদের (জাফরের) বাড়িতেই অবস্থান করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী হাজির করা হবে বলে আশ্বাস দিয়ে ঐ ৩ ব্যক্তিকে ঘাট থেকে নিজের সাথে নিয়ে চলে যান তারা৷ তিন জনের বাড়ি কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ার বিল ইউনিয়ন বলে জানা যায়৷

স্থানীয় পূর্ব আলী আকবর ডেইল চৌধুরী পাড়াস্ত মামুন পিতাঃ এজাত উল্লাহ এর নৌকায় ঐ ৩ জন সাতকানিয়া থেকে চ্যানেলের পূর্ব পাড় মগনামার যে কোন স্থান থেকে আলী আকবর ডেইল ঘাট হয়ে কুতুবদিয়ায় পা রাখেন৷

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার কামালের কাছে জানতে চাইলে, ঐ ৩(তিন) জনের কথা তিনি জানেন না কিন্তু একই দিনে তার অন্তত ১ঘন্টা পরে ৫(পাঁচ) জন মহিলা মাতার বাড়ি থেকে পার হন যাদের ২ জন একই ইউনিয়নের তাবালের চর ও ৩(তিন) জনের বাড়ি কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরুং এ অবস্থিত, ধুরুং এলাকার ৩জন স্থানীয় আলী আকবর ডেইল ঘাট এলাকার হাসমত মিস্ত্রীর শালী বলে জানান তিনি ,১৫ই এপ্রিল জেলে পাড়ায় আসা ০৮ ব্যক্তির ব্যাপারে তিনি শুনেছেন বলে স্বীকৃতি দেন৷

ঘাটে অবস্থান রত আনসার সদস্যরা ও এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন৷

ততক্ষণাত কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব দিদারুল ফেরদৌস এর সাথে মুটো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পাওয়া যায় নি বলে ওনার কোন মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি৷

কুতুবদিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ হেলাল চৌধুরী জানান, বিষয় টা তিনি অবগত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন৷ তিনি আরো জানান যেহেতু কুতুবদিয়ায় করোনা আক্রান্ত এখনো পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি তাই আমরা সবসময় সচেষ্ট আছি যাতে আক্রান্ত এলাকা কিংবা কুতুবদিয়ার বাইরে থেকে কোন লোক করোনার ভাইরাস বহন করে দ্বীপে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে না পারে৷ এ ব্যাপারে প্রত্যেক এলাকার স্থানীয় জনগণ কে আরো সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি৷

উল্লেখ্য চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং বাঁশখালী এই দুটি অঞ্চলে ইতি মধ্যে একাধিক করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় আগত ব্যক্তিদের নিয়ে কুতুবদিয়ার জন মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে৷

সচেতন মহল দাবী, বহিরাগমন রোধ করতে না পারলে তাদের মাধ্যমেই কুতুবদিয়ায় করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা বেশী৷

আপনার মতামত লিখুন :