টাঙ্গাইলে আমিন কাউন্সিলরের বর্বরতার শিকার সাধারণ মানুষ!

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৪৮ PM, ০৮ এপ্রিল ২০২০

চ্যানেল কক্স ডেস্ক:

সামজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক ব্যাক্তি লাঠি হাতে দলবল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন, যাকে সামনে পাচ্ছেন তাকেই বেদম পেটাচ্ছেন। অমানবিক বর্বরতার এই ভিডিওটি মূহেুর্তেই ভাইরাল হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাঠি হাতে ওই ব্যক্তির নাম আমিনুর রহমান আমিন। টাঙ্গাইল পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা-অটোটেম্পু ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তিনি। মঙ্গলবার টাঙ্গাইল শহরে ভরা বাজারে স্থানীয় শ্রমিক লীগের নেতা কর্মীদের নিয়ে মানুষকে কুকুরের মত পেটান আমিন। মাস্ক গ্ল্যাভস পরিহিত মানুষদেরকেও পেটানো হয়। ভরা বাজারে প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য কিনতে আসা মানুষকেও লাঠিপেটা করে এই শ্রমিকলীগ নেতা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাজার সদাইয়ে ব্যস্ত জনগনকে দোকানে ঢুকে পেটাচ্ছে মানুষরুপী এই জানোয়ার। আমিনের নির্মমতার শিকার মানুষরা লাঠি পেটা থেকে বাঁচতে এদিক ওদিক দৌঁড় দিলে তাদেরকে ধাওয়া করে পেটান আমিন। আমিনের সাথে তার দলে থাকা সন্ত্রাসীদেরকেও মানুষ পেটাতে দেখা গেছে। বাজারের ব্যাগ হাতে থাকা মানুষগুলো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদেরকে ইচ্চামত পেটানো হয়।

মটরসাইকেল আরোহী, সরকারী চাকুরির ডিউটিতে থাকা মানুষ আইডি কার্ড দেখিয়েও আমিনের হাতে মার খেয়েছেন। ভ্যানচালক রিকাশায়ালা সবজি বিক্রেতারাও এসময় আমিনের লাঠির আঘাতে আহত হন। মোটা বেতের লাঠি, যে লাঠিগুলো পুলিশ ব্যবহার করে, সেরকম একটি লাঠি নিয়ে পেটানোর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আমিন কমিশনার। তার লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত দেড়শো মানুষ। ভয়ে কেউ প্রতিবাদও করতে পারেনি। নিজেই সেই পেটানোর ভিডিও করিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরে এই কমিশনার আমিন ক্যাডার নামে পরিচিত। খুন সহ অন্তত এক ডজন মামলার আসামী এই আমিন। টাঙ্গাইলের বর্তমান মেয়র জামিলুর রহমানের হয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করেন। অভিযোগ আছে, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি করে আসছে এই আমিন। এছাড়াও টাঙ্গাইল শহরে আধিপত্য ধরে রাখতে আমিনের আছে বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী। যারা অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে। মূলত চাঁদাবাজি আমিনের পেশা। আওয়ামী লীগে নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে ভয় পায়।

একজন জনপ্রতিনিধি, একজন সন্ত্রাসী, একজন সরকার দলীয় নেতার প্রকাশ্যে কোন কারণ ছাড়াই মানুষ পেটানোর এই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী আমিন ক্যাডারের বিচার চাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন :