• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

ঈদের ছুটি থাকায় বেঁচে গেছে বহু প্রাণ বড় আগুনে ছোট ক্ষতি

সংবাদদাতা
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৯

শাহেদ মতিউর রহমান :

রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় বুধবার রাতের আগুনের ভয়াবহতার তুলনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল কম। তিনটি গুদাম ঘরের মালামাল পুড়ে কয়লা হলেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিশেষ করে ঈদের ছুটি থাকায় সেখানে কোনো প্রাণহানী ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কেননা অন্যান্য সময়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া প্লাস্টিক কারখানা ভেতরেই অনেক শ্রমিক রাতে থাকতেন, ঘুমাতেন। কিন্তু ঈদের ছুটি থাকায় বুধবার রাতে এখানকার প্রত্যেকটি গুদাম ঘরই ছিল তালাবব্দ। ভেতরে কোনো লোকজন ছিলেন না।

এদিকে রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকার ৬৯ নং ঢাল বা ওয়াটার ওয়ার্কসপ এলাকায় যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে ছিল ৫/৬টি প্লাস্টিক কারখানার গুদাম ঘর। এটি বশির মিয়ার গুদাম ঘর নামেই স্থানীয়রা সবাই চিনেন। এখানকার তিনটি গুদাম ঘর পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চারদিকে ইটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা আর উপরে টিনের চালার ছাউনির বিশেষ ধরনের দোতলা ঘরের আদলে নির্মিত এই গুদাম ঘরের সবকিছুই আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে এখনো ধোঁয়া বেরুচ্ছে। তিনটি গুদামেরই মেজেতে কয়লা আর পানিতে একাকার। গেটের বাইরে পুলিশ প্রহড়া বসানো হয়েছে। বাইরের কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য বুধবার রাত পৌনে ১১ টায় আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৫ টি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টার পর রাত একটার কিছু পরে আগুনে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিসের সাথে আগুন নেভাতে অংশ নেন স্থানীয় লোকজনও।

নুরুল হক নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা নয়া দিগন্তকে জানান, রাত পৌনে ১১ টায় আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস চলে আসে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দুই ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এর আগেই রাত ৯ টার দিকে প্রথমে গলির মুখে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে স্পার্কের কারণে স্থানীয়দের ভাষায় ভাংগাবাড়ির গেরেজে আগুন লাগে। তবে সেই আগুন ছোট হওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবেই নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন দোকানীরা। কিন্তু এর পর রাত সাড়ে দশটার পরে আবারো সেই একই ট্রান্সফরমারে পুনরায় স্পার্ক হওয়ার কারণে দ্বিতীয় দফায় বড় আগুনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ দ্বিতীয় দফার আগুনেই পুড়েছে তিনটি গুদাম ঘর। এসব ঘরে একটিতে ছিল বাচ্চাদের খেলনা গাড়ির সরঞ্জাম। দ্বিতীয়টিতে ছিল জুতার গুদাম আর তৃতীয়টিতে ছিল বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকের ছোট ছোট বোতন ও অন্যান্য সরঞ্জাম। তবে পাশেই ছিল দুই তিনটি পলিথেনের গুদাম ঘর। সেখানে আগুন ছড়াতে পারেনি। এখানকার প্লাস্টিকের একাধিক কারখানায় বিদ্যুতের সংযোগের জন্য তিনটি উচ্চ ক্ষমতার ট্রান্সফরমার কম উচ্চতায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপন করা হয়েছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =

আরো বিভন্ন বিভাগের নিউজ