নিউজ ডেস্ক,
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে শোকর্যালি করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা বারোটার দিকে আবরার হত্যার প্রতিবাদে শোকর্যালি বের করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
তবে তাদের এ শোকর্যালিও সমালোচনার বেড়াজালে আটকে গেছে।
গতকাল দুপুরে শোকর্যালির ছবি ও সংবাদ প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে সরব হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক।
সেখানে ইতিবাচক ও প্রশংসার চেয়ে নেতিবাচকই মন্তব্য জমা পড়েছে ঢের বেশি। এই শোকর্যালি হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির জন্য।
এর পেছনে রয়েছে দুটি কারণ। একটি হলো, ফেসবুকে শোকর্যালিটির যে ছবি ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা গেছে, র্যালির ব্যানারের কোথাও আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়া হয়নি। শুধুমাত্র শোক প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে শুধু লেখা হয়েছে – তোমার মর্মান্তি হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
দ্বিতীয়ত বৃহস্পতিবার এ শোকর্যালির কারণে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। র্যালি জন্য আটকা পড়ে রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স।
বৃহস্পতিকার টিএসসিতে সড়ক দ্বীপের পাশে তাদের শোকর্যালিতে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স অনেকক্ষণ আটকে থাকার পরেও সেটিকে বেরিয়ে যাওয়া জন্য কোনো জায়গা করে দিতে দেখা যায়নি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।
নেটিজেনদের প্রশ্ন, এ কেমন র্যালি যেখানে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করা হয়নি? তাহলে ছাত্রলীগের শোকর্যালি কি বার্তা দিচ্ছে?
অনেকে বলেছেন, একটি হত্যাকাণ্ড দিয়ে পুরো সংগঠনকে দায়ী করা বোকামো। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এ শোকর্যালির ব্যানার দেখে আমরাও বোকা হয়ে গেছি। যেখানে দেশব্যাপী এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইছে সেখানে ছাত্রলীগের শোকর্যালিতে এ বিষয়ে কোনো কথাই লেখা নেই।
এক ছাত্রলীগ কর্মী লিখেছেন, সাধুবাদ জানাতে গিয়েও পারলাম না এমন ব্যানার দেখে।
যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স আটকে কোনো র্যালি হয়নি, যদি আটকে থাকে, তাহলে হয়তো যানজটের কারণে আটকা পড়েছে।
তবে এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেরই কাছেই তিরস্কৃত হয় শোকর্যালি।
নেটিজেনরা বলেন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে জয় ও লেখক ভট্টাচার্যরা। এ বিষয়ে ছাত্রলীগকে সর্তক হওয়া প্রয়োজন ছিল।
এদিকে আবরার হত্যার বিচার চেয়ে ছাত্রলীগের শোকর্যালিকে তাদের শোডাউন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গণপদযাত্রা অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, আবরারকে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। আর সেই ছাত্রলীগই আবরার হত্যার বিচার দাবিতে শোকর্যালি করছে, এর চেয়ে উপহাস আর কী হতে পারে?