৭ উইকেটে বাংলাদেশের জয়, উড়ে গেল উইন্ডিজ

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:০৭ AM, ১৮ জুন ২০১৯

বিশ্বকাপ ডেস্ক : সেমি ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে জিততে হবে টাইগারদের, এমন সমীকরণে ভেঙে পড়েনি টাইগাররা। সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর লিটন দাসের অসাধারণ ইনিংসে উইন্ডিজদের উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ৩২২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগাররা জিতেছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। বল হাতে ছিল আরও ৫১টি। তাতে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে এলো মাশরাফির দলটি। ম্যাচ সেরা সাকিব বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকেন। ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও দারুণ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন বিশ্বকাপে অভিষিক্ত লিটন দাস।

বিশ্বকাপের ২৩তম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৩২১ রান। ৪১.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

সোমবার (১৭ জুন) টন্টনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ক্যারিবীয়দের মুখোমুখি হয় টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে তিনটায় ম্যাচটি শুরু হয়। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করে গাজী টিভি। আগের একাদশ থেকে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন। মোহাম্মদ মিঠুনের জায়গায় একাদশে আসেন লিটন দাস। এদিকে, কার্লোস ব্রাথওয়েটের পরিবর্তে উইন্ডিজ একাদশে আসেন ড্যারেন ব্রাভো।

ইনিংসের শুরু থেকেই উইন্ডিজদের চেপে ধরে টাইগাররা। প্রথম ওভারে মাশরাফি মেডেন ওভার নেন। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে ওপেনার ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ১৩ বলে কোনো রানই করতে পারেননি গেইল। দলীয় ৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজরা। মেডেন উইকেট নেন সাইফ।

তবে এরপর উইন্ডিজ দলের হাল ধরেন এভিন লুইস এবং শাই হোপ। মাশরাফি-সাইফ আর মোস্তাফিজের পেস বেশ ভালো ভাবেই সামলে নেন এই দুই ক্যারিবীয়। সেই সাথে মিরাজের ঘূর্ণিও বেশ সামাল দেন তারা। ১১৬ রানের রানের জুটি গড়েন তারা। ইনিংসের ২৫তম ওভারে সাকিব ফিরিয়ে দেন ওপেনার এভিন লুইসকে। ব্যক্তিগত ৭০ রান করে সাব্বিরের তালুবন্দি হন তিনি। তার আগে ৬৭ বলে ৬টি চার আর দুটি ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার।

শাই হোপ-নিকোলাস পুরান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন আরও ৩৭ রান। সাকিব ইনিংসের ৩৩তম ওভারে এসে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। ফিরিয়ে দেন নিকোলাস পুরানকে। ৩০ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ব্যক্তিগত ২৫ রান করে লংঅনে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন পুরান। দলীয় ১৫৯ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় উইন্ডিজ। এরপর ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন শিমরন হেটমায়ার। ২৬ বলে চারটি চার আর তিনটি ছক্কায় করেন ৫০ রান। মোস্তাফিজের করা ৪০তম ওভারে তামিমের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন তিনি। একই ওভারে উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন আন্দ্রে রাসেল। ফিজের জোড়া আঘাতে দলীয় ২৪৩ রানে উইন্ডিজরা পঞ্চম উইকেট হারায়।

দলীয় ২৮২ রানের মাথায় বিদায় নেন উইন্ডিজ দলপতি জেসন হোল্ডার। সাইফউদ্দিনের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়ার আগে ক্যারিবীয়ান দলপতি করেন ১৫ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কায় ৩৩ রান। দলীয় ২৯৭ রানের মাথায় বিদায় নেন শাই হোপ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা শাই হোপ ইনিংসের ৪৭তম ওভারে আউট হন। মোস্তাফিজের বলে লিটন দাসের তালুবন্দি হওয়ার আগে শাই হোপ ১২১ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৯৬ রান। ইনিংসের শেষ বলে সাইফ বোল্ড করেন ১৫ বলে ১৯ রান করা ড্যারেন ব্রাভোকে। ৬ রানে অপরাজিত থাকেন ওশানে থমাস।

মোস্তাফিজ ৯ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে পান তিনটি উইকেট। সাকিব ৮ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে পান দুটি উইকেট। মাশরাফি ৮ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মিরাজ ৯ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মোসাদ্দেক ৬ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে উইকেট পাননি। সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে ৭২ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন।

৩২২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ের শুরুটা করেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। দলীয় ৫২ রানের মাথায় বিদায় নেন সৌম্য। আন্দ্রে রাসেলের করা নবম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এই ওপেনার। পরের বলেই খোঁচা দিয়ে স্লিপে দাঁড়ানো গেইলের মুঠোবন্দি হন তিনি। তার আগে ২৩ বলে দুই চার, দুই ছক্কায় করেন ২৯ রান। এরপর ৬৯ রানের জুটি গড়েন সাকিব-তামিম। ইনিংসের ১৮তম ওভারে রান আউট হন তামিম। তার আগে ৫৩ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে তামিম করেন ৪৮ রান। দলীয় ১২১ রানের মাথায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায়।

ইনিংসের ১৯তম ওভারে ওশানে থমাসের বলে উইকেটের পেছন ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম। তার আগে ১ রান করেন মুশফিক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরির দেখা পান সাকিব। এই বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করতে সাকিবের লাগে ৮৩ বল। গত বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টানা ‍দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। সাকিব বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরিটি পেলেন। এদিকে, টানা চার ম্যাচের প্রথম দুটিতে ফিফটি প্লাস ইনিংস আর টানা দুটি সেঞ্চুরি হাঁকান সাকিব। লিটন দাসও নিজের প্রথম ম্যাচেই ফিফটির দেখা পান। ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন লিটন।

সাকিব-লিটনের জুটিতে আসে অবিচ্ছিন্ন ১৮৯ রান। দুজনই অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। সাকিব ৯৯ বল ১৬টি চারের সাহায্যে করেন অপরাজিত ১২৪ রান। লিটন দাস ৬৯ বলে আটটি চার আর চারটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৯৪ রান। ৫১ বল হাতে রেখেই জিতে যায় টাইগাররা।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে উইন্ডিজরা শুরুটা দারুণ করলেও এরপর আর কোনো ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি তারা। আর তাদের মতোই বাংলাদেশের শুরুটাও জয় দিয়েই। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা হয়েছে টাইগারদের। তবে এরপর দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। তাই তো চার ম্যাচ শেষে ছিল বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট ৩। নিউজিল্যান্ড আর স্বাগতিক ইংলিশদের বিপক্ষে হারতে হয়েছে টাইগারদের। উইন্ডিজদের হারিয়ে টাইগারদের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ালো ৫, টেবিলের পাঁচে উঠে এসেছে টাইগাররা।

কিউইদের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে টাইগাররা মাত্র ২ উইকেটে আর ইংলিশদের বিপক্ষে ১০৬ রানে হেরেছিল। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ক্যারিবীয়দের আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার, মাঝখানে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি। তারপরে আবার ইংলিশদের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় হার। এবার হারলো টাইগারদের বিপক্ষে। পাঁচ ম্যাচে গেইলদের নামের পাশে ৩ পয়েন্ট।

উইন্ডিজদের বিপক্ষে বাংলাদেশ ছিল দারুণ ছন্দে। দুই দেশের শেষ ছয় দেখায় উইন্ডিজ মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে আর বাংলাদেশের জয় পাঁচটিতে। এর মধ্যে শেষ পাঁচ ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :