আয়া সোফিয়ায় নামাজ : এরদোগানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইউরোপের মুসলমানরা

Channel Cox.ComChannel Cox.Com
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:১৮ AM, ২৬ জুলাই ২০২০

ডেস্ক নিউজঃ

তুরস্কের আয়া সোফিয়া মসজিদে ৮৬ বছর পর শুক্রবার নামাজের মাধ্যমে উদ্বোধন করায় ব্যাপক প্রশংসা করেছে ইউরোপের মুসলমানরা।

বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোর ঐতিহাসিক গাজী হুসেরেভ-বেগ মসজিদের মুয়াজ্জিন ভেহবিজা সেরোভিক এই সিদ্ধান্তের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আনাদোলু এজেন্সির সাথে কথা বলার সময় সুলায়মান মুর্তজা বলেন, নামাজের জন্য আয়া সোফিয়া খোলাই মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

তিনি বলেন, “আমি এরদোগানকে সেখানে নামাজ আদায় করতে দেখেছি। আমি তা সরাসরি দেখতেও পেয়েছি। এটি দুর্দান্ত ছিল।”

বেলজিয়ামের মুসলিম দেমা হাবিবও এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “আমি মসজিদটি দেখিনি, তবে

স্টকহোমে আনাদোলুর সাথে কথা বলতে গিয়ে ইরাকি বংশোদ্ভূত কারওয়ান মোহাম্মদ আবুবাকির বলেন, “আয়া সোফিয়া আবারো মসজিদ হিসেবে চালু হওয়ায় আমি খুব খুশি হয়েছি। আল্লাহর শুকরিয়া এটি জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে চালু হয়েছে, আমরা খুবই খুশি।”

সুইডিশ মুসলিম আহমদ আলতানতাভি বলেন, “যারা আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করতে অবদান রেখেছে তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

শুক্রবারের পবিত্র জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে ৮৬ বছর পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করলো তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া।

সকাল থেকেই আয়া সোফিয়া অভিমুখে মানুষের ঢল নামে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনার বাইরে ও রাস্তায় মানুষ নামাজ আদায় করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে এই মসজিদে নামাজের জায়গা পেতে রাতেই মানুষের জমায়েতের ছবি ভাইরাল হয়।

জুমার নামাজের আগেই উপস্থিত হন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। মসজিদে প্রবেশ করে তিনি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন। এসময় তিনি সুরা আল-ফাতিহা ও সুরা আল-বাকারা থেকে কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করেন।

এরপরে, মসজিদের চারটি মিনার থেকে চারজন মুয়েজিন আজান দেয়। অতঃপর উপস্থিত লোকেরা জুমার নামাজ শুরু করে।

দেশি-বিদেশী পর্যটকদের জন্য তুরস্কের সর্বাধিক দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে আয়া সোফিয়া অন্যতম।

১৯৮৫ সালে, যাদুঘর হিসেবে স্থাপনাটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাযর অন্তর্ভুক্ত হয়।

ইস্তাম্বুলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ৯১৬ বছর টানা চার্চ হিসেবে ব্যবহ্রত হয়েছে। আর ১৪৫৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৩৫ সাল প্রায় পাঁচশত বছর ধরে মসজিদ হিসেবেই পরিচিত ছিল এটি। এরপর ৮৬ যাবত এটা জাদুঘর হিসেবে পরিচিত ছিল।

গত ১০ জুলাই তুর্কি আদালতের রায়ে ১৯৩৪ সালের তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের জাদুঘরে রুপান্তরিত করার আদেশটি রহিত করার পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে চালু করতে আর কোন বাধা রইল না।

এরপর ১৬ জুলাই তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর এটি মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পরে আয়া সোফিয়া পরিচালনার জন্য সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এই চুক্তির অধীনে দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়া সোফিয়ার সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ তদারকি করবে এবং ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর ধর্মীয় সেবা তদারকি করবে। ইয়েনি শাফাক

আপনার মতামত লিখুন :