ট্রাম্পের হাসি-ঠাট্টা ও একগুচ্ছ করোনা বচন | ChannelCox.com

Najim UddinNajim Uddin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৪ PM, ০২ অক্টোবর ২০২০

চ্যানেল কক্স আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে স্ত্রীসহ করোনা আক্রান্তের এই খবর নিজেই এক টুইট বার্তায় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত নানা মন্তব্য করেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরার পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প বরাবরই এর বিরোধিতা করেছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেও তাতে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাস্কবিহীন সমর্থকদের নিয়ে বিশাল বিশাল সমাবেশ করেছেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসের নেয়া ব্যবস্থা নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠলেও মাথা ঘামাননি ট্রাম্প। এই ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কাড়লেও সঙ্কট মোকাবিলায় প্রশাসনের সফলতার গুণগান গেয়েছেন তিনি।

চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ে করা বিতর্কিত কিছু মন্তব্য

>> গত ২২ জানুয়ারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা করোনাভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। মাত্র একজন ব্যক্তি চীন থেকে এসেছেন। আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছি। এটা ঠিক হয়ে যাবে।

>> ২২ জানুয়ারি এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চীন কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে। তাদের প্রচেষ্টা এবং স্বচ্ছতার ভূয়সী প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা সব ভালো কাজ করবে। মার্কিন জনগণের পক্ষ থেকে আমি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

>> ২৩ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমরা এটার সঙ্গে খুব ভালোভাবে জড়িয়েছি। আমরা খুব বেশি সচেতন। আমাদের দেশে এর নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি।

>> ২৭ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ভাইরাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। একদিন এটি অলৌকিকভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

>> রিপাবলিকান দলীয় সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকের পর ১০ মার্চ তিনি বলেন, এই ভাইরাস অপ্রত্যাশিত… এটা বিশ্বকে আঘাত করেছে। আমরা প্রস্তুত আছি। এটা মোকাবিলায় আমরা ব্যাপক কাজ করছি। এটা ফুরিয়ে যাবে। শান্ত থাকুন। এটা চলে যাবে।

>> ট্রাম্প গত ১৩ মার্চ সাংবাদিকদের বলেন, আমি মোটেও এর দায়-দায়িত্ব নেব না। কারণ আমরা একগুচ্ছ নীতিমালা, প্রস্তাবনা, বিশেষ নির্দেশনা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দিয়েছি।

>> ১৫ মার্চ হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এটা খুবই সংক্রামক ভাইরাস। অবিশ্বাস্য। কিন্তু এটার ওপর আমাদের চমৎকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

>> ১৮ মার্চ এক টুইট বার্তায় বলেন, আমি সবসময় এই চীনা ভাইরাসের ব্যাপারে খুবই সতর্ক ছিলাম। একেবারে শুরু থেকেই প্রায় সবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সীমান্ত বন্ধ করাসহ এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে খুব ভালো কাজ করেছি।

>> ৩ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মাস্ক পরার বিষয়টি একেবারে স্বেচ্ছা-প্রণোদিত। আপনি চাইলে পরতে পারেন আবার নাও পারেন। আমি পরছি না। কিন্তু কিছু মানুষ পরতে চাইতে পারেন, তাতে আমার আপত্তি নাই। কারণ আমি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরশাসক, রাজা, রানি সকলকে শুভ কামনা জানাই।

>> ২৩ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, আমি জীবাণুনাশক দেখছি। এটা দিয়ে মাত্র এক মিনিটে ভাইরাস পরিষ্কার করা যায়। ফুসফুসের ভেতরে জীবাণুনাশক পুশ করার মাধ্যমে আমরা এ ধরনের কোনও কিছু কি করতে পারি? এই প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে দেখলে চমৎকার ফল পাওয়া যেতে পারে। পরে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, তিনি লোকজনকে জীবাণুনাশক পুশ করার উৎসাহ দেননি। বরং ওই মন্তব্যটি ব্যাঙ্গাত্মক ছিল বলে জানান তিনি।

>> ১২ জুলাই প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে মাস্ক পরে আসেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, আপনি যখন কোনও হাসপাতালে যাবেন, বিশেষ করে যখন অনেক সৈন্য, লোকজনের সামনে কথা বলবেন, তখন আমি মনে করি মাস্ক পরাটা দুর্দান্ত কাজ হতে পারে।

>> ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেন ট্রাম্প। এ সময় পকেট থেকে একটি মাস্ক বের করে হাতে নেন তিনি। সব সময় মাস্ক পরে থাকায় ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনকে বিদ্রুপ করে ট্রাম্প বলেন, কেবলমাত্র দরকারের সময়ই আমি মাস্ক পরি। বাইডেনকে ঠাট্টা করে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি তার মতো মাস্ক পরি না। আপনারা সবসময় তাকে দেখবেন মাস্ক পরে আছেন। তিনি ২০০ ফুট দূরে থেকে কথা বললেও সবচেয়ে বড় মাস্ক প্রদর্শন করবেন।

>> গত মঙ্গলবারের ওই বিতর্কে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তার নির্বাচনী সমাবেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে, এটা নিয়ে চিন্তিত কিনা? জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কোনও সমস্যা হয়নি। এটা বাইরে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে- এটা বিশাল ব্যবধান। আমাদের ওপর এটার নেতিবাচক কোনও প্রভাব নেই। আমাদের সমাবেশে ৩৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিল; এতে নেতিবাচক কোনও প্রভাবই পড়ে নাই।

Channel Cox News.

আপনার মতামত লিখুন :